Showing posts with label দহর পঞ্চম সংখ্যা. Show all posts
Showing posts with label দহর পঞ্চম সংখ্যা. Show all posts

January 26, 2019

দহর পঞ্চম সংখ্যা


দহর পঞ্চম সংখ্যা (জানুয়ারি ২০১৯)



এই সংখ্যায় যাদের কবিতা থাকছে...

সৈকত জানা।। জ্যোতির্ময় মুখার্জি।। কিশলয় গুপ্ত।।
সমীরণ চক্রবর্তী।। তাপস দাস।। শ্রীকণ্ঠ।।
দেবব্রত রায়।। সায়ন্তনী হোড়।। সুশীল হাটুই।।
কৌশিক চক্রবর্ত্তী।। শুভদীপ পাপলু।। রবীন বসু।। দেবপ্রসাদ মুখার্জী।।নিলয় নন্দী।। পবিত্র পাত্র।।
রঞ্জুলা দাশ।। সবর্না চট্টোপাধ্যায়।। প্রসেনজিত রায়।। তানিয়া ব্যানার্জী।। বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়।।

সম্পাদকীয়


               দহর পঞ্চম সংখ্যা (জানুয়ারি ২০১৯)


কিস্তি শেষের হিমেল বাতাস যখন লুকোচুরি খেলে যায়,  মানব মন রোমান্টিকতায় ভরপুর হয়ে ওঠে।হৃদয়ের কার্নিশ ছুঁয়ে যায় কবিতার পঙিক্তমালা।মেঘেদের প্রেমিকা বলে মনে হয় আর কুয়াশার ক্যানভাসে অক্ষরের ধ্বজা উড়তে উড়তে যাবতীয় কূটকাচালি ভুলে আমরা মেতে উঠি এক অনাবিল আনন্দের যোগসূত্রে। সেই যোগসূত্র কোথাও বইমেলা, কোথাও পুষ্পমেলা, কোথাও নাট্য উৎসব, কোথাও আবার নিবিড় কবিতা উৎসব - আমাদের সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যায়।

               এই রাস্তায় গত পাঁচ মাস ধরে হাঁটছে 'দহর', তাতে দহরমমহরম কিছু হয়তো হয়ে যায়নি, কিছু ফুলকে দরকারী ভেবে কুড়িয়ে নিয়েছি শুধু, কিছু দড়িকে সাপ ভেবে এড়িয়ে গিয়েছি, কিছু সাপকে অভিশাপ জ্ঞানে হেসে দিয়েছি, তবুও কবিতার উর্ধ্বে যে মানুষ থাকে তাকে অবহেলা করতে শিখিনি; জানি, আমরা কারো বিরাগভাজন হইনি, আবার কারো চাটুকারও হইনি। একাধারে একটা মাধ্যম থেকে বান্ধব হয়ে ওঠার এই প্রক্রিয়ায় 'দহর' নিজেকেই স্বীকার করে গন্তব্য হিসাবে। প্রশ্নটা প্রথম থেকেই ছিল, আর উত্তরটাও : সারা বিশ্বে প্রতিটা মুহূর্তেই অসংখ্য মানুষের জন্ম হচ্ছে অথচ প্রত্যেকেই মানুষ হয়ে উঠতে পারছে না, জন্মদাতা চাইছেন, জনিতৃ চাইছেন - তবুও না। কিন্তু এটাও তো ঠিক, এই অপত্যজনের কেউ কেউই বেঁচে থাকেন সক্ষমতায়। এই নিয়ে ৭০বার মনে করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও এই তন্ত্র সাধারণের মননে স্বাধীনতা আনতে ব্যর্থ হয়, আমরা জানি, কিন্তু এটাও ঠিক যে, এই তন্ত্রে থেকেই যাবতীয় মুখরা গেয়ে দেওয়া যায় নির্ভয়ে। 

             চলমান সময়গর্ভ থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর মতো একজন নেতাজী বেরিয়ে আসছে না দেখে হা-হুতাশ করতে করতেই নিজের হাতে তুলে নিচ্ছি বাঁধ; তা অমান্য করে যারা লিখে চলেছে এই সময়ের কঠিন শরীর তাদের কুর্নিশ জানাতে 'দহর' উদগ্রীব। মসিশক্তির অর্চনায় 'দহর' ভক্তপ্রাণ।

ওই সমস্ত কলম যারা শরীরের থেকে স্মৃতি খুঁটে খুঁটে সময়ের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের থেকে সেরা ২০টিকে পাঠকের সামনে রাখলাম। ভালোবাসি বলেই বললাম ভালোবাসি।

সেইসঙ্গে দহরের পক্ষ থেকে কবি-গদ্যকার শ্রী জ্যোতির্ময় মুখার্জীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, পত্রিকাটি প্রকাশের প্রাক্কালে তিনি  বিশেষ সহযোগিতা করে আমাদের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।

'দহর' পত্রিকার সঙ্গে থাকুন। সাহিত্য জগতে দলাদলি, লবিবাজি নয়, ভালোবাসার সম্পর্ক দৃঢ় হোক। মুক্ত ও শুদ্ধ, নতুন এবং আরও নতুন লেখালিখির আঙ্গিক খুলে যাক চারপাশে।

                                              ধন্যবাদান্তে,
                                              সম্পাদকদ্বয় 
                                  (সুতনু হালদার ও সৌরভ বর্ধন)
প্রজাতন্ত্র  দিবস                      শান্তিপুর, নদীয়া
২৬/০১/২০১৯

সৈকত জানা



রক্ত বুলেট


১

মনে হয় গুলিটা এবার ঠিক মাংস পাহাড়ে লেগেছে ।
বুকের শহরের বাম পাশ থেকে এক লহমায় রক্তরা আততায়ী রূপে সদলে বেরিয়ে যাচ্ছে । আর যাওয়ার সময় বলে যাচ্ছে সেই গুলির সন্ত্রাসীবাদী কাহিনীর প্রেক্ষাপট । যার সঞ্চয়রুপ ভবিষ্যতে কয়েক পর্বের এক উত্তম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি হতে পারে ।

২
সেই বুকের শহরটাকে এখন আপাতত আবিষ্কৃত এক অধুনা পৃথিবী ভাবতে পারো । যার রক্ত ভূগর্ভের হিং লাভা ! বুলেটের আঘাতে গুমরে গুমরে জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে ভূপৃষ্ঠের শহরতলীতে জন-সাম্রাজ্যের ভিড়ে । সব পুড়ে ছাই করে নোংরা পাড়া-মহল্লা, আততায়ীর কালো জঙ্গল, ভন্ড সন্ন্যাসীর মন্দির এবং রাজনীতির হিংস্র রীতিনীতি পুস্তকগুলিকে।

৩
ওই বুকের বাঁ পাশে গভীরে যুবকদের বাস , যারা এই বিশাল শরীরটাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে তার ভবিষ্যতেদের জন্য । আর গুলিটা ঠিক... ওখানেই লেগেছে । এখন তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত । বাকিরা পরজীবী চাঁদের মত পেছনের আকাশে লুকিয়ে লুকিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য ভক্ষণ করে।

৪
হীনবল মন্ত্রী-পাঞ্জর আর মধুমেহ মাংস পিন্ডের সে ক্ষমতা নেই, যে দোরগোড়ায় আততায়ী বুলেট কে আষ্টেপিষ্টে আটকাবে । ভেঙ্গে দেবে বেবাক সন্ত্রাসী বিস্ফোট পরিকল্পনা । যারা অন্ধকার ঘরে , উরগ গর্তে বারুদ দিয়ে মনে মনে ভাবি লাশের শহরে রং, তুলি ঘোরায় ।

৫
কার বন্দুক থেকে বেরোলো এমন বুলেট ?
তুমি কি তাকে দেখেছো ? কার আঙ্গুলে এত জোর যে বন্দুক দিয়ে বুলেট চালায় ?

জ্যোতির্ময় মুখার্জি


শব ছুঁয়ে কোন শবরী বালিকা

আজ ঝুমরু লেগেছে পায়ে। ঝুম ঝুম ঝুম কোন অবুঝ দুল। দুলকি দহনে দুলেছিল সব। শব ছুঁয়ে কোন শবরী বালিকা। সাদা থান গায়ে

এসো। ফিরে এসো। এইটুকুই তো পথ। কেন ছেড়ে যাবে ?

নাচিছে নাচিছে ওরা শব। সব। শবরী বালিকা লাল চেরি গায়ে। গাঁয়ে। সেজেছে সেজেছে লালচে ললাট

তাহলে পথে কেন বেঁধেছিলে?

লালে লাল হলে ডাক রাতের ভোর। ভরে ভরে নদী চামড়া কাঁকন। কাঁদিছে। ওলো কাঁদিছে তোর কোলের ধন

যেতেই হবে? কিন্তু পেটে যে আমার...

শোন। শবরী শোন। চিতা কাঠ ছুঁয়ে। ডাকিছে। ওলো ডাকিছে তোর মরদ দহন। তেলকালি নেভা ন‍্যাওটা মরণ

চলো। চলেই যাই। এইটুকুই তো পথ। কেন রেখে যাবে ?

সুশীল হাটুই


আলতা-পরা ট্রাম-লাইন

অবশেষে a2+b2 ফর্মুলার কাছে
কুয়াশার মেল আইডি পেয়ে গেলাম।

কু + আশা = কুয়াশা। কু = খারাপ,
আশা =

১ বান্ডিল আশার ভিতর কু থাকবে কেন ?

প্রশ্ন আমি তুলিনি। মাছের পেট থেকে বেরোনো
শকুন্তলার আংটি প্রথম তুলেছিল।

৩০২০ সালে মিস্ ইউনিভার্স হবে যে শালিক
সে-ও কি একই প্রশ্ন তুলবে ?

জানি না। তবে মেঘ কেন চাতকের কান্না
শুনে হাসে, তার রহস্য খুঁজতে বেরিয়ে দেখছি,

আলতা-পরা ট্রাম-লাইন। ট্রাম-লাইনের পাশে,
গান্ধারীর বেহালা বাজছে...

সমীরণ চক্রবর্তী


শেকড়ের শোক


অতঃপর বৃ্ষ্টিতে ধুয়ে গেল
শহরের সব জেব্রা ক্রসিং।
সিগন্যালের সব লাল আলো
ঘুষঘুষে জ্বরে আদুরে বিড়ির আগুন।
মোড়ের মাথায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে
আতঙ্কে ছুটে পালাচ্ছেন হুসেনের বিতর্কিত সরস্বতী।
রাতারাতি মাল্টিপ্লেক্সের ডলবি সিস্টেমে
সংসার সাজিয়েছে লোমশ বেজির দল,
পাবলিক চেটেপুটে লুফে নিচ্ছে অ্যাট্রাকটিভ অফার
ফ্ল্যাট ফিফটি পারসেণ্ট অফ,
সাদা পর্দায় কালো মানুষেরা নড়ছে,
কিন্তু বলতে চাইলেও আপাতত কিচ্ছু বলতে পারছে না...
রুস্তমজী ধোতিওয়ালার ট্যাঁক থেকে
কিছু কানাকড়ি ছড়িয়ে গেল ডিসেন্ডিং এস্কেলেটরে
পাবলিক তখনও নির্বাক দর্শক মাল্টিপ্লেক্সে,
কি জানি সেদিনের রাজা হরিশচন্দ্র বেঁচে থাকলে
আজও এমন নির্বাক থাকতেন কি না
নাগরিক অস্তিত্ব সংকটে...

তাপস দাস


মা- চিঠি লেখেন না


আমার মা কোত্থাও চিঠি লেখেন না...

কারণ অনেক---

প্রথমত,
আমার গায়ে তার সমস্ত অক্ষর বসিয়ে দিয়ে
নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

অথবা,
তার সমস্ত ঠিকানাগুলো আমার অস্তিত্বে
জমাট বেধে, শিলা হয়ে গেছে।

নয়তো,
আমার গায়ে যে অলৌকিক বৃক্ষটি বাড়ছে
তার, ফুল- হলুদ পাতার অপেক্ষায়
নিথর বসে আছেন।

হয়তো,
আমিই একমাত্র তার,খবর
আসা-যাওয়া,  নাভিমূল ঠিকানা, শীতল
নিরন্তর জল!

আমার
এত এত সবুজ অক্ষর, এত এত গাছে
পাতার মতো ঝুলে থেকে, এত এত কথা
কবে, কবিতা হয়ে নামবে
মা কে তুলে দেব জীবন সংকলন...

রবীন বসু


পরিত্যক্ত শিশিরের জল



শীতঘুম ভেঙে এইমাত্র জেগে উঠল আমার শহর l
স্মার্টফোন হাতে সকালের রোদ
                       কর্পোরেট রমণীকে চাটছে ;
বিস্তীর্ণ ফুটপাত জুড়ে আলস্য
                       কাঁথামুড়ি দিয়ে পড়ে আছে ;
পড়ে আছে বিগতরাতের ছেঁড়াস্বপ্ন l

চায়ের দোকানে জল এইবার ফুটে উঠবে
ফুটে উঠবে জীবন প্রাত্যহিকতায় ;
                  চলমান ফ্লাইওভার গতি পাবে
উন্নয়ন আজ যেন উধাও ডেটিংয়ে যাবে ;
মাখামাখি শেষ হলে পরিত্যক্ত শিশিরের জল
                         ছিন্নমূল ফুটপাতে পড়ে থাকে l

সবর্না চট্টোপাধ্যায়


বিয়েটাকে এখন

ট্যাগলাইনে আজকাল ‘এক্সক্লুসিভ কেয়ার '
থরে থরে সাজানো ঘিয়ের লাড্ডু।
ঝলমলে হিরে আর ডিজাইনার স্যুট....
তারপর আসল তামাসা শুরু।

অন্তরঙ্গ পোজে রোল ক্যামেরা অ্যাকশন।
খনি চুষে নিংড়ে নিচ্ছে আগুন
আর জালছেঁড়া প্রজাপতির দল
তোলপাড় করছে ময়ূরপঙ্খী কাচের জল...

পার্সেলে কন্ডোম। হানিমুন ফোটোশ্যুটের প্ল্যান
হিরোর চওড়া পিঠ আঁচড়ের নিচ্ছে
অফসোলডার 'লাভবাইট'...

শুধু একটু বিশ্বাস দুচামচ নুন। ব্যাস
তাহলেই বেঁচে যায় হুজুগের ডির্ভোস… 

রঞ্জুলা দাশ


সাধারণ প্রেম

অবিশ্রান্ত পথিকের ভীড়ে দাঁড়িয়ে থাকে-
যে শ্রান্তপথিক,
অসময়ের বৃষ্টি কে উপেক্ষা না ক'রে থমকে যায় -
যে পান্থ,
প্রখর দুপুরে জলের তেষ্টায় -
যে তৃষ্ণার্ত,
সেই চেনা, ভীষণ চেনা কে আমি ভালো রেখেছি।
কোনোরকম কাঠিন্যতা স্পর্শ করতে না পারার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি,
ভেঙেছি, গড়েছি, সুন্দর ক'রে সাজিয়েছি।
সরলতা যেখানে অহংকার,
ঠোঁটের কোণের এক চিলতে আলো যেখানে রূপ,
রোজনামচা যেখানে লড়াই,
সেই পুরনো, অতি প্রাচীন কে আমি ভালোবেসেছি

শুভদীপ পাপলু


রাস্তা চলছে...

নিজেকে শত্রু মানলে পিছল তোমার প্রত্যেকটি কুয়োতলা।
চর সেজে খবরে নিয়েছি তোমারই গেরিলা হানা একহাত-
আশেপাশে গণিকার হানা,কলেজ স্কোয়্যারে বৃষ্টি একপশলা...
চোখদুটো নিরক্ষর হয়েও প্রতিবিম্বের জবাবে অন্তর্ঘাত।

নিজেকে শত্রু মানলে অপ্রস্তুত তোমার নিজস্ব বাথরুম।
বইমেলাকে ভেবেছি চারু,সঞ্চালিকা'কে ভেবেছি কাবাব...
শেষ-হওয়া আহত অভিধানে সুবিস্তৃত শারীরিক শীতঘুম-
শেষ ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়লে-‘আমার কোনও দোষ নেই,স্বভাব।’

নিজেকে শত্রু মানলে হাত তুলে উদ্ধারের চেষ্টায় তোমার ডুব।
তারিখটি নষ্টের ঘামে স্রোতস্বিনী হওয়া উষ্ণ দুপুর, বরফের-
এগিয়ে আসছে পোশাকি সংঘাত,সুরে তাই নগরকীর্তন,খুব
বিপরীতে অসুখ ছোঁয়ায়,ছোটগল্পের প্রভাব,বাংলা হরফের-

নিজেকে শত্রু মানলে পন্থা সকল তোমার হৃদয়ে বাম।
বৃষ্টিফোঁটা ছাতায় ভিজিয়ে ভ্রুণে ভ্রুণে সেজেছি পরমাণু;নিরাকার।
বয়স আঠেরো উতরে গেল,এখনও মুহূর্ত কবিতার শিরোনাম-
আমাকে খুন করেছি এত,খুনেরই সমার্থ হয়েছে, প্রবেশাধিকার...

দেবপ্রসাদ মুখার্জী


বন্যা


সোঁদা জমির আলপথ বেয়ে সূর্যাস্তের রেখা হেঁটে গেছে
জীবন্ত কালপুরুষ হয়ে । আমি অসাড় হয়ে পড়েছি বারবার

ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে পড়া শরীর নিয়ে মিছিল করেছি ,
ভোরের আকাশে নিভে যাওয়া তারাদের সৎকার করেছি নিজহস্তে ।
তবুও তখনো ঝড় থামেনি বাম অলিন্দের রক্তিম কপাটিকায় ,
তখনো বৃষ্টি নামেনি তোমার চোখে , কাজলও ভেসে যায়নি স্রোতে

আমি কখনো মৃত্যু দেখিনি চাঁদের ঠোঁটে কিংবা মূলাধারে ,
তবুও আক্রান্ত হয়েছি রবিহারার বিবর্ণতায় বারংবার
আবার খসে পড়েছি ব্ল্যাক হোলে ভেসে থাকা নক্ষত্রানুর মতোই ।

তানিয়া ব্যানার্জী


কাভি তো কারিব আও, কাভি তো নাজার মিলাও


জল ছুঁয়ে দিলে!   মেঘ ঘুঙুর বাঁধে পায়..  ময়ুরীর মতো।
অশরীরী যত লুকোনো ইচ্ছেরা,  হামাগুড়ি দেয় আকাশের গায়।

আকাশের মৌনতায় গাঁটছড়া বেঁধে!
  ইতিমধ্যেই শিখে নিয়েছে সে তারাখসা দেখা-
একটা... একটা...একটা কোরে।

প্রতিদিন বিকেল আসে বহুরূপীর বেশে
  অমনি চশমা চোখে আঁটসাঁট হয়ে বসে, ছুঁয়ে ফেলতেই পিচ্ছিল মাছের মতো সরে যায়,
   নতজানু হয়ে গড় করে তার পায়...
  ও বিকেল,  আমার গোধূলি হয়ে থাক সর্বক্ষণ!
   অমনি,  একগাদা নালিশের ফর্দ ধরিয়ে মৌনি হয়ে যায়।

মেঘ পুনরায় তারাখসা দেখে... সকালের অপেক্ষায়

কিশলয় গুপ্ত


১_জানুয়ারী_২০১৯
 

তুমি আর আমি।জামবাটি ভর্তি মাখা মাংস ভাত
নাচুনে অন্ধকার জুড়ে লক্ষ অশ্বারোহী। যুবতী রাত
রুটিনে আলো। গতকাল। সারিবদ্ধ ইঁট।এপিটাফ
সেলাই করা কাঁধঝোলা।কই শান্তিনিকেতনী পাপ?

তুমি আর আমি।শব বাহিত গাড়ি।হাসি। স্বর্গরথ
উড়ন্ত টেবিল।ঝুলে থাকা কথোপকথন।ঘ্যামা পথ
পাগলাটে বাউল ধরে আখড়া।খেউড় খেউড়ে খিস্তি
ধর্মাবতার,ক্ষমা করুন হতেও পারে এটা শেষ কিস্তি

তুমি আর আমি।গড়ানে ফুলমতি বছর- লাজবাব
খালি বাসনকোসন কালের পেটে ফুটন্ত অভাব!!
আর পাঁচটা দিন যেমতি সরযূর তীরে রামের বাপ
সেলাই করা কাঁধঝোলা।কই শান্তিনিকেতনী পাপ?

তুমি আর আমি।পাপ পাপ চোখ। নাবালক হাত
তুমি আর আমি।জামবাটি ভর্তি মাখা মাংস ভাত।

কৌশিক চক্রবর্ত্তী


উপশম

এখনো রাতজাগা কুকুরের পিঠে খেলা করে সংজ্ঞাহীন প্রজাপতি
সকলেই ঘেয়ো ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নেই আর-
কথা ছিল নিজের ঘরে ফিরে যাবার আগে
খাবার জুগিয়ে জুগিয়ে প্রজাপতির প্রাণ ফেরানোর-
কিন্তু কেও পারেনি পুরো রাত জাগতে
সকলে ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে
বেছে নিয়েছে নিজেদের প্রিয় অধ্যায়...
ফিরেও দেখেনি রাতের ভারতবর্ষে
ঠিক কতগুলো প্রজাপতি উড়ে এসেছিল মানুষের গায়ে বসতে--
কিন্তু কোনোভাবেই ঘরে প্রবেশাধিকার পাওয়া হয়ে ওঠেনি তাদের।

সকলের চশমায় মোটা কাচ লাগানোই রীতি বহুদিনের
যাতে পেরেকের আঘাত থেকে চোখকে বাঁচানো যায় সাধ্যমত
আমাদের চোখে আছে বস্তা বস্তা রঙিন কাপড়--
সেই জামায় আমরা ঢাকব রাতের কুকুরদের শরীর
আমরা পোশাক বিলোবো প্রাণহীন প্রজাপতিদের জন্যও...
অধিকার বিলি করতে বসে আমরা সরিয়ে নেব দিন... রাত... দুপুর
এবং সমস্ত সময়ের সুস্পষ্ট প্রভেদ...

শুধু বিচারক হবার জন্য এই শহর পাল্টায়নি নিজের রঙ
পোশাকেরা ছদ্মবেশ হয়ে উঠতে শুরু করলে
আমরাও বস্তা ফেলে রোদচশমায় লুকিয়ে রাখব চোখ!
ভেবে দেখব, রাতের কুকুরেরা আসলেই হিংস্র ছিল
নাকি মানুষের শরীর থেকে প্রজাপতি কেড়ে নিয়ে
তারা বসিয়ে রাখত পুরনো ঘা'য়ে একটু উপশমের জন্য।

দেবব্রত রায়


পোকাদের মুখোশপ্রীতি

আলো ও আঁধারির যতটুকু মেলামেশা হলে
একটি রেডলাইট-জোন তৈরি  হয়,
তারও চেয়ে ঈষৎ অন্ধকার-নিরালায়
মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল একা
কুয়াশাচ্ছন্ন এক দ্বীপের মতো।
(আর), সেই বিষণ্ণ মেরুশীতে
অন্ধকারের কিছু  কৃমি-কীট
মেয়েটিকে লুঠের মাল ভেবে তার উন্নত পীন-
পয়োধর ক্ষীণকটি-র জ্বোরো জ্বোরো ওম নিতে
একটি পাহাড়ি বাজের মতো ছো মেরেছিল!
অথচ, কয়েকটি লালাসিক্ত জিভ,
নখ আর, দাঁতগুলি সন্ত্রস্ত
ফিরে এসেছিল দ্রুত।

আসলে, মেয়েটির শরীর জুড়ে
মাধুরীর গজগামিনী পোর্ট্রেট  থাকলেও,
তার মুখমণ্ডলে আঁকা ছিল অভাবি সংসারের
মতো-ই কয়েকটি ক্ষতর ট্যাটু!

যদিও, মুখোশের ক্রীতদাস পোকারা
মুখোশ বিহীন মুখ দেখেনি কখনো
আর, সেই "বেহায়া" মেয়েটিরও
জানা ছিল না ক্ষতচিহ্ন ঢেকে রাখার
কোনও মায়াময় মুখোশের কথা! 

পবিত্র পাত্র



সূত্র

সূত্র শিখে নাও,তাগিদের-
কল্পকাল,মৃত্যুছাঁচ -এসবেরও।
ভাঙা মাস্তুল দেখে আমি শেকড়ের কথা ভেবেছিলাম,
তারপর সব ডিঙা ঢেলে দিয়েছিলাম,সেই কৌশলের তাগিদে; তারা এখনও ফেরেনি।

শ্রীকণ্ঠ


ফিউজিজম

বায়োস্কপে ব্লু সিনেমায় ষাঁড়ের গুঁতো
ভালোবাসার রং ছাপোষা

উলঙ্গপনায় জড়িয়ে থাকে ফিতাকৃমি

আল্ট্রাভায়োলেট রে ওজোনহোলে মাথা ঝুঁকায়

একটার পর একটা অন্ধি-সন্ধি বেয়ে ইউরেনিয়াম
মিশে যায় হাড়ের মজ্জায়

ক্রোমোজিয়াম বিনাশ দ্যাখে ভ্রূণাক্ত মাংস পিণ্ড

এভাবেই ফিউজিজম বিশ্বাসে
পথ চলতে থাকি আমরা

অন্ধকে আলো দেখতে না দিয়ে
গর্বিত আমরা আনন্দের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি

সৃষ্টির সূত্রে
ঢেলে দিই
বিষাক্ত বীর্য্যাসিড........    

নিলয় নন্দী


উড়ান

দুধসাদা সিরোস্ট্র্যাটাস...

ছাদ নেই কার্ণিশ নেই ঊর্ধ্ববাহু ঊর্ধ্বমুখ
দুদিকে প্রসারিত হাত অ্যাভিস অনুসারী
অন্তর্ঘাত বা অবাধ্য প্রেম অকপট আর
যা কিছু উদ্বায়ী যা কিছু নিরলস মান্ধাতা
ছেড়েছি ছুঁড়েছি
          এবার ছুঁয়ে যাবো
                   এবার হেরে যাবো
                             কখনো হারিনি
সে যত ডেকে যাক ঊরু বা শৃঙ্গ তন্নতন্ন
মেঘের সন্তান বৃষ্টি অক্ষর ব্রীড়া সংলাপ
উড়ে যাচ্ছি উৎসমুখ দ্বিধাবিভাজিকা
ধোঁয়াই সম্বল...

ফানুস মানুষ গোণে ক্ষয়ে যাওয়া মুখ।

সায়ন্তনী হোড়


অসুস্থ মনচিত্র

শরীর থেকে আর একটু শরীর খুঁড়ে নিলে
বিচ্ছেদের গন্ধ প্রকট হয়ে ওঠে
বোবা রংমশালের রঙিন কাগজ ধীরে ধীরে
  মেঘেদের প্রেমিকা হয়ে উঠছে ।

এক একটা নিউক্লিয়ার সাজিয়ে রেখেছি
গভীর নলকূপের পাইপে
  যেখান থেকে জলের বদলে উঠে আসছে তোমাকে না বলা এক গুচ্ছ কথা

  মনের অসুখটা ধীরে ধীরে
যেন জানালার ঐ কাঁচে আবদ্ধ হয়ে গ্যাছে
   ভেজা চোখের মাঝে নগ্ন প্রকৃতির
  আস্বাদ নিতে পারলে ও হয়তো কিছুটা
    মনের রম্বসকে কেটে বাদ দিতে পারতাম
       
কিন্তু নাহ

       আজ অসুখ সারানোর মলম দিলেও
   ক্ষতরা সেই  অদৃশ্য   সুখের প্রতিকূলে চালিত হয়

   এভাবেই  ভাঙা  মানচিত্রের খামে
        অস্তিত্ব সংকটের অঙ্ক বন্দি  থাকে চিরদিন. . .