Showing posts with label 'দহর' চতুর্থ সংখ্যা. Show all posts
Showing posts with label 'দহর' চতুর্থ সংখ্যা. Show all posts

January 05, 2019

'দহর' চতুর্থ সংখ্যা


(অণুকবিতা সংখ্যা)




সূচীপত্র :

একটি করে অণুকবিতায় : অমিত পাটোয়ারী, খোদেজা মাহবুব আরা, গৌতম কুমার গুপ্ত, তুষার আচার্য্য, উৎপল তালধি, শুভদীপ ঘোষ, গোপাল বাইন, বিকাশ দাস, সুশীল  হাটুই, বন্যা ব্যানার্জি, মনোজকুমার রায়, দেবব্রত রায়, নিলয় নন্দী, নিজামুদ্দিন মণ্ডল, সুবোধ ঘোষ, কৌশিক চক্রবর্ত্তী, মিষ্টু বসু, আমিনুল সেখ, জয়দেব মহন্ত, সায়ন্তনী হোড়, মৌমিতা চক্রবর্তী, রাজশ্রী ব্যানার্জী।


দুটি করে অণুকবিতায় : জ্যোতির্ময় মুখার্জি, হেমন্ত সরখেল, উজান উপাধ্যায়, মন্দিরা ঘোষ, অভিজিৎ দাশগুপ্ত, রবীন বসু, তন্ময় চৌধুরী, দয়াময় পোদ্দার।







শোক প্রকাশ :            

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বাংলা সাহিত্যে এই নক্ষত্রপতন অপূরনীয় ক্ষতি। তাঁর লেখনীতে তিনি অমর থাকবেন আমাদের মাঝে আমাদের সাথে।




****




সম্পাদকীয়



নিছক কৌতূহলী মেঘগুলোও শীতের সকালে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে চায়, ওদের মনের মধ্যে জমে থাকা হিমবাহ কবির কলমে অক্ষরের প্রবহমান অবারিত ধারা হয়ে ফুটে ওঠে…

জীবনের পরাগমিলনগুলো রেণু থেকে রেণুর অন্তঃস্থলে নিজস্ব বর্ণালিকে রামধনু রঙে ফোটাতে ফোটাতে একদিন স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এই স্ব-অবলম্বনেই ধরা থাক জীবনের সমস্ত কবিতার মর্মার্থ।  শুরু হোক জীবন কবিতার এক অনাবিল ধারা…

সমস্ত যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মানব মনকে যদি কেউ নিরিবিলিতে একটু শান্তি দেয় সেটা অবশ্যই কবিতা। দৈর্ঘ্য,  প্রস্থ, আয়তন, ক্ষেত্রফল- এসবের হিসেব নিকেশের বদলে এই সুমিষ্ট শীত মূর্ছনায় ৩০ জন কবির সর্বমোট ৩৮ টি অণুকবিতার ডালি নিয়ে দহর এবার আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। প্রতিটা কবিতাই অনবদ্য। আশা করি পাঠকের মনোরঞ্জন করতে প্রতিটি কবিতাই সফল হবে। আমাদের পত্রিকার এবার প্রচ্ছদ করেছেন কবি পাবলো শাহি। দহরের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য এবং এই সংখ্যার সকল কবিদের জন্য রইল আন্তরিক ধন্যবাদ।



শুভ বড়দিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা সহ-

                    সুতনু হালদার ও সৌরভ বর্ধন
                                  ২৫/১২/২০১৮




অমিত পাটোয়ারী



জ্বালা

সে এসে দাঁড়ালো ছায়ায়
কোমল, এই উগ্র বিষাদের থেকে তুই পালা
আজ কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি
হলে তোর বহুবর্ষকালব্যাপি জ্বালা
ধুয়ে যাবে। কী গরীব তখন জীবন !
প্রতিদিন স্নানে ভেজা লাভা, প্রতিদিন ভিজে থাকা মন।




খোদেজা মাহবুব আরা



সীমাবদ্ধ

সীমাবদ্ধ হতে হতে
জীবন ও মৃত্যুর সাথে সখ্যতা বেড়ে যাচ্ছে
জীবন শুনিয়ে যায় আনন্দের সুর
আর  মৃত্যু সব কেড়ে নিচ্ছে,
ভিখারীর মত উৎসর্গ করছে
তিক্ত গরলের নিরুপায় পৃথিবী।




গৌতম কুমার গুপ্ত



ছায়া

ভাষা হয়ে আছে ঋণী
অক্ষরের দায়ভার, চোখের নীচে

আমৃত্যু থেকে যায় কঠিন অনুবাদ
অশ্রুময় নয়তো নান্দনিক সংরাগ

কে বলে নেই, আছে আছে
ঈশানে, নৈঋতে সীমাহীন সীমানায়

আবহ বাজে দ্যাখো অভিধায়




তুষার আচার্য্য



শাইলক

পরম আত্মীয় হয়েও ডাকি না তোমায়।
বাঙালী মনের আনন্দের ও বিরক্তির সম্ভাষণ।
নারী, পুরুষ নির্বিশেষে তোমায় ডাকে যত্রতত্র।
আড্ডায় থাকো অসম্মানীয়, হয়ে ক্যাবলা কাবু,
লোকালয়ে জোটে সম্মান পদবী মশাই বা বাবু।
অবাক হলে তোমায় ডাকি প্রথমে থাকে যাঃ,
পানশালাতে আছো তুমি,
গলা অব্দি খা।




উৎপল তালধি



ক্ষত

রাতের আকাশে তোর বুক
অসংখ‍্য ক্ষতস্থান নিয়ে
প্রসারিত হয়।
সভয়ে তাকিয়ে থাকি-
ক্রমশ আমার চোখ ভরে ওঠে
বিগলিত আলোকে ;
সর্বাঙ্গে জ‍্যোতির্ময় ক্ষতচিহ্ন নিয়ে
ঘুমপাড়ানি গান গাই নিজেকে শোনাতে।




শুভদীপ ঘোষ



লোভ

লালা মেশানো
তর্জনি আর বৃদ্ধ আঙুল দিয়ে
বইয়ের পাতা
উল্টোতে উল্টোতে
কানে ভেসে আসে টাকা গোনার শব্দ;

কোথাও লোলুপতায় মেশানো আঙুলগুলো
যেন মিশে মিলে মিলে যাচ্ছে।




গোপাল বাইন



কবি

যে কবি কবিতা লেখে
সেও ভূমিষ্ঠ হয় মায়ের কোলে
কিন্তু সে তারালোক থেকে আসে।

যে কবি কবিতা লেখে
সে আমাদের নিঃসাড় পৃথিবীতে
চিরজাগরুক থাকে।




বিকাশ দাস



বলাৎকার

এসো কবি। এখন নির্জলা দুপুর।
আমায় নির্ভয়ে নগ্ন করো।
শব্দের কাঁচি ছুরি ধরো। মায়াবী গন্ধের ইথার ভরো।
খুবলে নাও শিকড় সমেত আমার উরস খুলে
হোক ভাঙচুর তোমার রিরংসার কলম তুলে।
আর্তনাদ পড়ে থাক একা নিশ্চুপ।
ভালো থাকার ধৃতি শুধু ভালোবাসা নয় বলে
নিয়ে যাও কবিতা শরীর থেকে শরীর ছিঁড়ে
হোক বলাৎকার; কবিতার চেয়ে বেশি দামি।




সুশীল হাটুই



মধ্যরাতের T- 20

সোনালি আয়নায় তুমি আমাকে দ্যাখো
আর আমি রূপালি জলে তোমাকে। তারই
মধ্যে ফুলদানির জন্মদিনে বেলুনের গাওয়া
গান ভেঙে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বরফে।
আমি সেই গানের টুকরোগুলি বাৎস্যায়ন
নামে ক্যূরিয়রে পাঠিয়ে দিই তোমার সরু
কোমরের হাহাকার ভরা পিচে। যে পিচে
মধ্যরাতে শুরু হয় T- 20.




বন্যা ব্যানার্জি



শপথ

নিঃস্ব আগুন পোড়াচ্ছে মন
বারুদ জমা বন্ধ দ্বার ।
সময় তুমি আগলে রেখো
পাঁজর ভাঙা অঙ্গীকার।।




মনোজকুমার রায়



প্রণামী বাক্স

একটানা চলতে চলতে থমকে দাঁড়াল
বদলে নিল কলমের কালি
প্রণামী বাক্সের রং
গোধূলি আকাশে উষার প্রভাতে
মিছিলের পথে নব বলি

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে ফ্যাকাশে হয়ে উঠে
প্রণামী বাক্সের রং
তখন গভীর অন্ধকারের ভিতর




দেবব্রত রায়



নবান্ন

মাঠভরা ফসলের মৃত্যু মানে ,
তোমাদের খুশির নবান্ন-------
অহোরাত্রি নৃত্য - গীত!




নিলয় নন্দী



অনতিক্রমণ

পেরিয়ে যাচ্ছি প্রিয় স্টেশন। আগে পরের লেভেল ক্রসিং। পেরিয়ে যাচ্ছি সেলফি মোড, বায়োপিক। জীবনে কিস্যু হল না গোছের যাবতীয় আক্ষেপ। পেরিয়ে যাচ্ছি কোনো পরিত্যক্ত বুথ, ডাইনে বাঁয়ে অন্ধগলি। ট্রাকের হর্ণ, ঝিঁঝিঁর ডাক আর অনিচ্ছুক শেয়ারবাজার। পেরিয়ে যাচ্ছি শ্রাবণ, শুভাকাঙ্ক্ষী বা নেহাত নিরুত্তাপ এক দিন।

শুধু দু-একটা দীর্ঘশ্বাস কখনো পেরোনো হলো না...




নিজামুদ্দিন মণ্ডল



ধানসেদ্ধ

শীতের ভোরে ধানসেদ্ধর গন্ধ
নাদায় কুঁড়োর জ্বাল জ্বলছে
মা উস্ কাঠি চালাচ্ছে অনবরত,
আমরা তিন প্রান্তে বসে উত্তাপ নিচ্ছি
গুনগুন করে গল্প শুরু হয়েছে,
শীতের ছেঁড়া পোষাক ভেদ করে
তাপ চলে আসছে সম্মুখভাগে,
পাত পোড়ার গন্ধ পাচ্ছি এখনও

অজান্তেই এমনই কত স্মৃতি শুকিয়ে যায়




সুবোধ ঘোষ



ছায়া

জায়গাটি  দুর্গন্ধ মুক্ত করল
একটি কাক।
কাকটিকে ঘিরে সাতটি কাকের
উৎসব হ'লো শুরু...

ঐ ----
মাটিতে পূর্ণ সুখের ছায়া পড়ে।।




কৌশিক চক্রবর্ত্তী



শূন্যস্থান

সাময়িক মৃত্যুতে রাস্তায় গাড়ি চেপে শোও
হিসাব রেখোনা কত ঢুলু চোখ তোমায় দেখেনি
বরং সে প্রিয়মুখে চুমু রাখো নিয়মমাফিক্
গাছেরাও শিখে নিক বিস্তার আর কুর্বানি।

আবার ফিরেছে সেই শূন্যতা জীবনযাপনে
এখনো মিছিল হলে তুমি একা মৃতদেহ সাজো,
বিষাদের রংতুলি ফেলে যেও শ্মশানের পাশে
লুকিয়ে রাখবো আমি ছাই মেশা জলের আওয়াজও।




মিষ্টু বসু



স্মরণ

অকপটে সম্ভাষণ আদরের
বেহালা সুরের রঙিন তর্জমা করলে যা দাঁড়ায়-
পাড়া ঘেঁষে উঁকি মেরে  উল্লম্ফিত উত্তেজনা তার
নিয়মিত দোর খোলে বিনাশর্তে সমর্পিত আত্মা এষণায়
জেগে ওঠে হলুদ পাতা বোঝাই সংকলন
অস্পষ্ট জট ছিঁড়ে
অসহায় কুঞ্চিত রেখা দিব্য অনুমানে ফিরে চলে
অপার্থিব বর্ত্মে...

যুঝে নেওয়ার পরিধি ক্রমশঃ গুটিয়ে নিলে থাবা,অস্থিরতায়
অসময় বোঝে না ঘড়ির কাঁটা বিষম ফোটায় পুনঃপুনঃ